
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম
পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ
তিনি আফ্রিকায় নির্ধারিত একটি ভ্যাকসিন কার্যক্রমকে বলা এবং কার্যক্রমকে অনুকূলিতার চেষ্টা করেছেন। প্রতি বছর ১,০০,০০০ শিশুর মধ্যে ৫,০০০ শিশুর জীবন রক্ষা করতে পারা যায়। এটি বিশ্বে প্রথম ধাপে একটি সফল ভ্যাকসিন কার্যক্রম হিসেবে পরিচিত।
টিকাদান কর্মসূচি (EPI)
যুগ্মভাবে স্বাস্থ্য এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পরিবার পরিকল্পনা এবং শিশু এবং মাতৃ স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রাথমিক স্তরে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে টিকা প্রদান করা হয়। প্রাথমিকভাবে এই কর্মসূচি ১৯৭৯ সালে কার্যকর হয়েছিল এবং এতে কুষ্ঠ, পোলিও, টিটানাস, হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস এ এবং ডিফথেরিয়ার বিরুদ্ধে টিকা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্র (ICDDR, B) প্রতিষ্ঠা
জলবায়ু ভিত্তিক রোগ গবেষণা ও নিরীক্ষার জন্য বাংলাদেশে International Centre for Diarrhoeal Disease Research, Bangladesh (ICDDR,B) প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি প্রতি বছর ২.৫ লাখ রোগীর চিকিৎসা প্রদান করে। প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল পানীয় ও খাদ্যজনিত রোগ গবেষণা এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন।
গ্রামীণ স্বাস্থ্যসম্মিলন
প্রতি বছর দেশে গড়ে প্রায় ২,৭০০,০০০ রোগী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে। এই কার্যক্রম গ্রামীণ এলাকার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়।
গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্য সমিতি স্থাপন ও সম্প্রদায়িক উন্নয়ন
স্থানীয় সম্প্রদায়ের “গ্রাম সমিতি” বা গ্রামীণ স্বাস্থ্য সমিতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামে স্বাস্থ্য সেবার জাগরণ করা হয়। এছাড়া “গ্রামীণ প্রতিরক্ষা দল” (Village Defence Party) এর মাধ্যমে স্থানীয় সম্প্রদায়ের সাহায্য নিয়ে স্বাস্থ্য কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
গ্রাম পর্যায়ে ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র
গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র মেডিকেল কলেজ (বড়রা) এবং উপজেলা হাসপাতালের সাথে সংযুক্ত থাকে। এই কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় জনগণ সহজে চিকিৎসা সেবা পায়। এছাড়া পরিবার পরিকল্পনা ও টিকাদান কার্যক্রমও এখানে পরিচালিত হয়।
গ্রামীণ স্বাস্থ্যকর্মীর ভূমিকা
গ্রামীণ স্বাস্থ্যকর্মীরা দেশের গ্রামীণ জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে। এছাড়া বিভিন্ন স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রচার ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) “Health for All by 2000” কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রশিক্ষণ
মেডিকেল কলেজ এবং নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপন ও সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেয়। চিকিৎসকদের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা যাতে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করা যায়।
স্বাস্থ্য বাজেট ও অবকাঠামো উন্নয়ন
জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয় যাতে গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ক্লিনিক নির্মাণ করা যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ইউনিয়ন সাব-সেন্টার গঠন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়ন (MCH)
শিশু মৃত্যুহার কমাতে এবং মাতাদের স্বাস্থ্য রক্ষায় বিশেষ কার্যক্রম নেওয়া হয়। গর্ভবর্তী নারীদের পুষ্টি, টিকাদান এবং নিরাপদ প্রসব সংক্রান্ত সচেতনমূলক কার্যক্রম চালানো হয়।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব
ইউনিসেফ, WHO, USAID ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলে। ICDDR, B’র মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গবেষণা ও সাহায্য বৃদ্ধি পায়।
দুর্যোগকালীন স্বাস্থ্যসেবা
১৯৭০-১৯৮০ সময়কালে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার সময় ত্রামাপ্রাপ্ত চিকিৎসা দল ও জরুরি ঔষধ সরবরাহ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়।
দৃষ্টি শক্তি ও প্রতিবন্ধী সেবা
“Vision Bangladesh”-এর প্রাথমিক ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শিশুর ও প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়।
ঐতিহাসিক “১৯ দফা কর্মসূচি”
রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ঘোষিত ঐতিহাসিক “১৯ দফা কর্মসূচি” ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পুনর্গঠন ও স্বনির্ভরতার একটি রূপরেখা। এই ১৯ দফার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা, পরিকল্পনা ও জনকল্যাণ-সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দফা উল্লেখযোগ্য।
দেশবাসীর জন্য ন্যূনতম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা
এই দফা সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি বহন করে। জিয়াউর রহমান এ দফা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গ্রামীণ চিকিৎসা, ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র সম্প্রসারণ করেন।
পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারকরণ
এই দফার আওতায় ১২,০০০ পরিবার পরিকল্পনা কর্মী নিয়োগ, নগদ প্রণোদনার “ক্যাফেটেরিয়া পদ্ধতি” এবং সচেতনতা কার্যক্রম চালু করা হয়।
দারিদ্র্য বিমোচন ও জনকল্যাণমুখী সামাজিক ন্যায় নিশ্চিতকরণ
স্বাস্থ্যসেবা দারিদ্র্য বিমোচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল, বিশেষ করে মা ও শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন কর্মসূচির মাধ্যমে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের ভিত্তি নির্মাণে যাঁরা দৃঢ় ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্ব দিয়েছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁদের অন্যতম।
